হাম এবং এর উপসর্গ: মৃতের সংখ্যা ৭১৬ জনে পৌঁছাল, সংক্রমণ ১ লাখ

হামেরে কারণে মৃতের সংখ্যা ৭১৬ জনে পৌঁছাল

কর্তৃপক্ষ যেটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব হিসেবে বর্ণনা করছে, তার মধ্যে বাংলাদেশে অন্তত ১৯৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়েছে এবং দেশব্যাপী হাজার হাজার আক্রান্তের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।


স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি শিশু মারা যাচ্ছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।


এর পরিপ্রেক্ষিতে, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টায় সরকার গত ১৫ মার্চ একটি জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যার লক্ষ্য লাখ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ছোট শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা।


বাংলাদেশে হামের এই পুনরাবির্ভাবকে টিকাদানের আওতার ঘাটতি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটার সাথে যুক্ত করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, টিকাদানের হারে সামান্য হ্রাসও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে।


হাম বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান ছোঁয়াচে রোগ হিসেবে রয়ে গেছে, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী টিকাহীন শিশুদের জন্য বিশেষ উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post