তোমার ওই চোখের মায়ায় আমি বারবার হারাবো, যেখানে শুধু আমার জন্য এক আকাশ ভালোবাসা জমা আছে।

 

নবনগরের অন্ধকার গলিপথ থেকে শুরু করে কর্পোরেট জগতের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ—সবখানেই একটি নাম শুনলে মানুষের বুকে কাঁপন ধরে। তিনি হলেন রায়হান চৌধুরী, যাকে সবাই আড়ালে ডাকে ‘জীবন্ত যমরাজ’। রায়হানের জীবনটা যেন এক জটিল ধাঁধা। মাত্র ৮ বছর বয়সে এক অজানা কারণে তার মা মারা যান, আর ১৮ বছর বয়সে নিজের বাবাকে তিনি নিজেই জেলে পাঠান। এই কঠোর ও নির্মম মানুষের জীবনে যখন সায়রা ইসলাম নামের এক সাধারণ মেয়ের আগমন ঘটে, তখন থেকেই শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

ক্ষমতার খেলা ও রায়হানের আধিপত্য

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় নবনগরের এক অভিজাত ক্লাবের দৃশ্য। সেখানে রুবি আপা নামের এক নারী সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, এই শহরের আসল ক্ষমতার মালিক রায়হান দাদা। তাকে বিরক্ত করলে নবনগরে বেঁচে থাকা অসম্ভব। রায়হানের কঠোর পদ্ধতির কথা সবাই জানে। কিন্তু এই কঠিন মানুষের বুকেও যে একসময় ভালোবাসার আলো জ্বলতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। সায়রা অত্যন্ত চতুরতার সাথে রায়হানের কাছাকাছি আসে। প্রথম দেখায় সায়রা নিজের আংটি রায়হানের কাপড়ে আটকে যাওয়ার উসিলা করে তার মনোযোগ আকর্ষণ করে। রায়হান প্রথমে সায়রার এই কৌশলকে নিম্নস্তরের মনে করলেও ধীরে ধীরে সায়রার মায়ায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন।

প্রতিশোধের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্য

গল্পের মোড় ঘোরে যখন জানা যায় সায়রার এই আগমনের পেছনে কোনো সাধারণ প্রেম নেই, বরং রয়েছে এক জলজ্যান্ত প্রতিশোধের আগুন। শাহরিয়ার নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সায়রার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং তার মাকে ‘ব্রেন ডেড’ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শাহরিয়ারের এই অত্যাচারের বিচার চাইতেই সায়রা নবনগরের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ রায়হানের আশ্রয় খোঁজে। রায়হান চৌধুরী যখন জানতে পারেন যে সায়রাকে শাহরিয়ার এবং তানভীর রহমান নামের কিছু লোক হেনস্থা করার চেষ্টা করছে, তখন রায়হানের ভেতরের ‘যমরাজ’ জেগে ওঠে। তিনি তানভীরের হাত কেটে নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দেন এবং সায়রাকে রক্ষা করেন।

কর্পোরেট ষড়যন্ত্র এবং চূড়ান্ত আঘাত

সায়রা শুধু রায়হানের ভালোবাসাই জয় করেনি, সে মজুমদার কর্পোরেশনে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়ে শাহরিয়ারের সমস্ত অপরাধের প্রমাণ জোগাড় করতে শুরু করে। শাহরিয়ারের একটি গোপন কক্ষ রয়েছে যেখানে সে মানুষকে নির্যাতন করে এবং সেই সমস্ত ভিডিও সংরক্ষণ করে। সায়রা নিজের জীবন বাজি রেখে সেই সমস্ত প্রমাণ ও ভিডিও উদ্ধার করে। রায়হান চৌধুরী যখন সায়রার এই বিপদের কথা জানতে পারেন, তখন তিনি নিজের সমস্ত শক্তি নিয়ে শাহরিয়ারের মুখোমুখি হন। শেষ পর্যন্ত রায়হান ও সায়রার যৌথ প্রচেষ্টায় শাহরিয়ারের পতন ঘটে এবং সায়রা তার বোনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হয়।

এক বছরের ব্যবধান ও মধুর সমাপ্তি

সব ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে গল্পটি এক বছর পরের দৃশ্যে গিয়ে পৌঁছায়। রায়হানের মা (যিনি সায়রাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসেন) হুইলচেয়ারে বসে সায়রার জন্য ফুলের মালা তৈরি করছেন। রায়হান ও সায়রা এখন একে অপরের চিরদিনের সঙ্গী। রায়হান স্বীকার করেন যে, সায়রার আগে তিনি একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো আবেগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু সায়রার ভালোবাসাই তাকে আবার বাঁচতে শিখিয়েছে। সায়রা রায়হানের বুকে মাথা রেখে বলে, জীবনে যতই অন্ধকার আসুক না কেন, রায়হানের ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আলো। এক রোমাঞ্চকর প্রতিশোধের গল্পের পর এক চমৎকার ভালোবাসার সমাপ্তি ঘটে এই নাটকের।

Post a Comment

Previous Post Next Post