পারিবারিক বন্ধন যেখানে ক্ষমতার লোভে বিষাক্ত হয়ে ওঠে, সেখানে জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাসের। চৌধুরী বাড়ির বড় মেয়ে ফারহানা চৌধুরী। আজ থেকে দীর্ঘ ২০ বছর আগে এক অদ্ভুত গণনার ওপর ভিত্তি করে তাকে জাগতিক সমাজ থেকে দূরে, পাহাড়ের এক শান্ত আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তার জন্মগত আধ্যাত্মিক শিরা নাকি সাধারণ মানুষের সমাজে বেঁচে থাকার উপযুক্ত নয়। কিন্তু সময় সব সমীকরণ বদলে দেয়। ২০ বছর পর আজ ফারহানা যখন ফিরে এল, তখন চৌধুরী বাড়ির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্ষমতা, অর্থ আর লোভের এক অন্ধকার জালে বন্দি পুরো পরিবার।
নির্বাসনের অবসান ও চৌধুরী বাড়ির সংকট
ফারহানার নির্বাসনের মেয়াদ আজ শেষ। পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ এবং আধ্যাত্মিক সাধনা তাকে করে তুলেছে শান্ত কিন্তু ভেতরে অপরিসীম শক্তিশালী। যখন সে চৌধুরী বাড়িতে পা রাখল, তখন বাড়ির কর্তা আলঙ্গীর চৌধুরী মৃত্যুর শয্যায়। দক্ষিণপুর শহরের চারটি প্রধান পরিবার—টাং, বাই, ইয়ে এবং লু পরিবার—চৌধুরী বাড়ির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো সাম্রাজ্য গ্রাস করতে চাইছে। তারা দামি উপহার, সোনা এবং জমি নিয়ে এসেছে ফারহানার গুরুকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনার জন্য, যাতে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু ফারহানা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, "মন যদি আন্তরিক না হয়, উপহার যত মূল্যবানই হোক না কেন, কোনো কাজে আসবে না।"
ঘরের শত্রু বিভীষণ
আলঙ্গীর চৌধুরীর ম্যানেজার করিম মিয়া যখন খবর নিয়ে এলেন যে কর্তা আর বাঁচবেন না, ফারহানা তখন নিজের পরিচয় গোপন রেখেই চৌধুরী পরিবারে প্রবেশ করে। কিন্তু সেখানে তাকে স্বাগত জানানোর বদলে জোটে চরম অপমান। ফারহানার ছোট ভাই শামিম চৌধুরী এবং দত্তক নেওয়া বোন সুমিয়া চৌধুরী তাকে "পাহাড়ের বুনো মেয়ে" বলে উপহাস করে। শামিম নিজেকে চৌধুরী গ্রুপের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ঘোষণা করতে মরিয়া। সে ফারহানাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। কিন্তু তারা জানত না, আলঙ্গীর চৌধুরী মৃত্যুর আগে তার সমস্ত শেয়ার এবং চৌধুরী সাম্রাজ্যের প্রধান পদের দায়িত্ব (জেড আংটি) ফারহানার হাতে তুলে দিয়ে গেছেন।
ক্লাবের অন্ধকার ও ষড়যন্ত্রের জাল
চৌধুরী বাড়ির ছোট ভাই সালেহ চৌধুরী। সে ব্যবসার কোনো খোঁজ রাখে না, সারাদিন মদ্যপান আর ক্লাবে মেয়েদের নিয়ে পড়ে থাকে। সুমিয়া এবং শামিম তাকে ব্যবহার করে চৌধুরী ফার্মাসি এবং লিন পরিবারের ব্যবসা দখল করার পরিকল্পনা করে। ফারহানা যখন সালেহকে ফিরিয়ে আনতে ক্লাবে যায়, সেখানেও তাকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। কিন্তু ফারহানা তার আধ্যাত্মিক শক্তি এবং মার্শাল আর্টের কৌশলে ক্লাবের গুন্ডাদের এক নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। সালেহ বুঝতে পারে, তার এই বড় বোন কোনো সাধারণ মেয়ে নয়। ফারহানা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, "চৌধুরী বাড়ি এখন ধ্বংসের মুখে, কারণ ভেতরের কেউ বাইরের শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়েছে।"
শেয়ারহোল্ডারদের সভা ও সত্যের উন্মোচন
তিন দিন পর চৌধুরী গ্রুপের শেয়ারহোল্ডারদের সভা বসে। শামিম চৌধুরী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল যে সে-ই হবে পরবর্তী চেয়ারম্যান। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ফারহানা চৌধুরী এক রাজকীয় বেশে সভায় প্রবেশ করে। তার সাথে ছিলেন বিশ্বস্ত ম্যানেজার করিম মিয়া এবং ফারহানার স্বামী মোহাম্মদ রাজু, যিনি হুইলচেয়ারে থাকলেও বুদ্ধি ও কৌশলে অতুলনীয়।
করিম মিয়া আলঙ্গীর চৌধুরীর আসল উইল সবার সামনে পাঠ করেন। উইলে স্পষ্ট লেখা ছিল, চৌধুরী সাম্রাজ্যের ভেষজ, জুয়েলারি এবং খনির ব্যবসাসহ সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী ফারহানা চৌধুরী। শামিম এই উইলকে জাল বলে চিৎকার করে উঠলে, ফারহানা তার হাতের "জেড আংটি" দেখায়, যা চৌধুরী পরিবারের আসল প্রধানের প্রতীক।
বাংলা বীর ক্লাব এবং চূড়ান্ত যুদ্ধ
সুমিয়া চৌধুরী ও শামিম সহজে হার মানার পাত্র ছিল না। তারা দক্ষিণপুর শহরের কুখ্যাত "বাংলা বীর ক্লাব"-এর প্রধান ছাত্র জামাল হোসেন এবং তার গুন্ডাবাহিনীকে ভাড়া করে ফারহানাকে হত্যা করার জন্য। জামাল হোসেন অহংকার করে বলে, সে বক্সিং রাজা টাইসনকেও পরাজিত করেছে। ফারহানার ছোট ভাই নাসির চৌধুরী ফারহানাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়।
ঠিক তখন ফারহানা তার আসল রূপ দেখায়। সে আধ্যাত্মিক গুরুর কাছ থেকে শেখা "ছায়া পদক্ষেপ" এবং গোপন মার্শাল আর্ট কৌশল ব্যবহার করে জামাল হোসেন এবং তার পুরো বাহিনীকে একাই পরাস্ত করে। জামাল হোসেন যখন জানতে পারে ফারহানা স্বয়ং শান্ত আশ্রমের প্রধান আমানুল ইসলামের গুরু, তখন সে ফারহানার পায়ে পড়ে ক্ষমা চায়।
অপরাধের শাস্তি ও নতুন সকাল
মোহাম্মদ রাজু এবং রাজীব রাজুর সহায়তায় ফারহানা সুমিয়া ও শামিমের সমস্ত অপরাধের প্রমাণ—ভিডিও ফুটেজ এবং আলঙ্গীর চৌধুরীর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (যাতে প্রমাণিত হয় সুমিয়া তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে)—পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সুমিয়া চৌধুরী ও ফাহিম খান নিজেদের বাঁচাতে একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
উপসংহার
সব ঝড় শেষে চৌধুরী বাড়িতে আবার শান্তি ফিরে আসে। ফারহানার আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় তার ছোট ভাই নাসির চৌধুরী এবং স্বামী মোহাম্মদ রাজু সুস্থ হয়ে ওঠে। ফারহানা চৌধুরী তার বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করে, সে চৌধুরী পরিবার এবং তার ভাইদের সবসময় রক্ষা করবে। আজ চৌধুরী সাম্রাজ্য দক্ষিণপুরের সমস্ত পরিবারকে ছাড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। সত্যের জয় আর অন্যায়ের পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় চৌধুরী বাড়ির এই দীর্ঘ ২০ বছরের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়।

Post a Comment