মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় থমাস টুখেলের শিষ্যরা। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ডেকলান রাইস গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এরপর এজরি কনসা কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এরপর মঞ্চ দখল করেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দেন আর্সেনাল তারকা। বিরতিতে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দিদিয়ের দেশম একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন এনে আক্রমণের ধার বাড়ান। তার ফলও মেলে দ্রুত। কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা আরেকটি গোল করলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে ফ্রান্স।
কিছুক্ষণ পর এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৪-৩-এ নিয়ে আসেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোলের রেকর্ড গড়েন এমবাপ্পে।
ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া, তখনই ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেন সাকা। পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে জুড বেলিংহ্যামও একটি গোল করলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়। ফ্রান্সের হয়ে শেষদিকে আরও একটি গোল করেন উসমান দেম্বেলে। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। যদিও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের হতাশা রয়ে গেছে, তবে স্মরণীয় এক জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল টমাস টুখেলের দল।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের অধ্যায় শেষ হলো পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। জোড়া গোল করে ব্যক্তিগত কীর্তি গড়লেও দলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে।

Post a Comment