শুরুর গল্প: এক তরফা ভালোবাসা এবং নিভৃত ত্যাগ
গল্পের মূল চরিত্র *নিনা ওয়েন*। আজ থেকে সাত বছর আগে নিনা এবং তার বাবা গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলেন জীবিকার তাগিদে। নিনার বাবা জেসনদের বাড়িতে গাড়ি চালক বা ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সুবাদে জেসনের সাথে নিনার পরিচয়। বড় বাড়ি, বড় লোক—স্বাভাবিকভাবেই নিনার মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করতো।
একদিন অসাবধানতাবশত নিনার হাত থেকে জেসনদের বাড়ির একটি দামি ফুলদানি ভেঙে যায়। বাড়ির ম্যানেজার যখন নিনাকে মারধর ও অপমান করার জন্য উদ্যত হয়, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো এসে হাজির হয় **জেসন শ** (Shaw Group-এর একমাত্র উত্তরাধিকারী)। জেসন ফুলদানি ভাঙার দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিনাকে রক্ষা করে। সেই প্রথম দেখা, প্রথম উপকারেই নিনা তার মন হারিয়ে বসে জেসনের কাছে। জেসন ছিল নিনার জীবনের প্রথম আলো। দূর থেকে জেসনকে দেখলেই নিনার মনে হতো সে কোনো স্বপ্নের রাজকুমারকে দেখছে। ভালোবাসায় হয়তো অন্ধ হওয়া যায়, কিন্তু সেই অন্ধত্ব যখন কারো জীবনের সবচেয়ে বড় কালবৈশাখী ঝড় ডেকে আনে, তখন চড়া মূল্য চোকাতে হয়।
দুই বছরের লিভ-ইন এবং নির্মম বাস্তবতা
নিনা জেসনকে এতটাই ভালোবাসতো যে, জেসনের প্রতিটা প্রয়োজনে সে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিল। জেসন মদ্যপ অবস্থায় যখন নিনাকে নিজের বিছানায় টেনে নেয়, নিনা নিজেকে সঁপে দেয় জেসনের ভালোবাসার টানে। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ দুটি বছর। নিনা জেসনের সাথে একই ছাদের নিচে কাটিয়েছে, তার জন্য প্রতিদিন লাঞ্চ প্যাক করে দিয়েছে, বিছানা গরম করেছে—এক কথায় বিনা মূল্যের এক পরিচারিকার মতো জেসনের সব দেখভাল করেছে। নিনা জেসনের কাছ থেকে কোনো টাকা চায়নি, শুধু চেয়েছিল তার পাশে থাকার একটু সুযোগ। নিনা জানতো জেসন অন্য একজনকে (জেনা সং) ভালোবাসে, তবুও সে আশা করেছিল—একদিন না একদিন জেসন ঠিকই তার দিকে ফিরে তাকাবে।
কিন্তু নিয়তি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর। জেসনের মা (Chairman of Shaw Group) যখন তাদের এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন, তখন তিনি নিনাকে ডেকে এক কোটি টাকার চেক অফার করেন জেসনের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য। নিনা টাকার চেক প্রত্যাখ্যান করে জেসনের মাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়
চরম অপমান
নিনার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে তখন, যখন সে জেসনের ঘরের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে জেসনের সাথে তার বন্ধুর ফোনালাপ শুনতে পায়। জেসনের বন্ধু জেসনকে জিজ্ঞেস করেছিল, জেনা সং তো ফিরে আসছে, তাহলে জেসন তার সেই গোপন মেয়েটিকে (নিনাকে) নিয়ে কী করবে—যে তাকে প্রতিদিন রান্না করে দেয় আর বিছানা গরম করে?
দরজার ওপার থেকে জেসনের দেওয়া উত্তরটি নিনার বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। জেসন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বলে—সে শুধুই বিনোদন, একটি সেক্স টয়! এর বেশি কিছু নয়। জেসন আরও বলে যে, জেনাই তার জীবনের একমাত্র আলো এবং কেউ জেনার সমতুল্য হতে পারে না।
এই একটি বাক্য নিনার মনের সব আলো এক পলকে নিভিয়ে দেয়। নিনা বুঝতে পারে, গত দুই বছর ধরে সে জেসনকে যা কিছু দিয়েছে, জেসনের কাছে তার কোনো মূল্যই ছিল না। নিনা চোখের জল মুছে সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার প্রতিজ্ঞা রাখবে এবং জেসনকে আর কখনো নিজের মুখ দেখাবে না।
থিসিস চুরি এবং একাডেমিক ষড়যন্ত্র
স্নাতক পাসের ডিফেন্সের দিন জেসন তার আসল রূপ প্রকাশ করে। সে নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিনার তৈরি করা অত্যন্ত মূল্যবান এবং গবেষণামূলক বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস থিসিস পেপারটি চুরি করে তার প্রেমিকা জেনা সং-এর নামে জমা দেয়। ডিফেন্সের মঞ্চে যখন নিনা তার বক্তব্য শুরু করতে যায়, তখন শিক্ষকরা তাকে 'চোর' বলে অভিযুক্ত করেন। কারণ, জেনা সং ঠিক একই থিসিস একটু আগেই সাবমিট করে বাহবা কুড়িয়ে নিয়েছে।
নিনা যখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে এবং জানায় যে সে তিনটি শহরের লাইব্রেরি ও আর্কাইভে ঘুরে দিন-রাত জেগে এই ডেটা তৈরি করেছে, তখন শিক্ষকরা জেনাকে প্রশ্ন করেন। জেনা ডেটার উৎস বলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর জেসনের মিথ্যা সাক্ষ্য জেনাকে বাঁচিয়ে দেয়। জেসন ভরা মজলিসে দাঁড়িয়ে নিনার বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় যে, এই ডেটা সে আর জেনা একসাথে তৈরি করেছে। ফলে শিক্ষকরা নিনার গ্র্যাজুয়েশন বাতিল করেন এবং তাকে আগামী বছর আবার পরীক্ষা দেওয়ার শাস্তি দেন। নিনা জেসনের দিকে তাকিয়ে শুধু একবুক ঘৃণা আর হতাশা নিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।
কর্মের ফল এবং চূড়ান্ত প্রতিশোধ
গল্পের মোড় ঘোরে তিন বছর পর। নিনা কিন্তু দমে যায়নি। সে তার মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বখ্যাত জিন থেরাপি বিশেষজ্ঞ ডক্টর লি-র অধীনে একজন সফল গবেষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। অন্যদিকে, জেসন শ এবং জেনা সং ভেবেছিল তারা নিনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে পার পেয়ে গেছে। কিন্তু 'কারমা' বা কর্মের ফল কাউকেই ছাড়ে না।
জেসন শ এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করতে বাধ্য হয়। যেখানে সে পুরো মিডিয়ার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। সে স্বীকার করে যে, তিন বছর আগে সে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিনা ওয়েনের থিসিস পেপার চুরি করে জেনা সংকে দিয়েছিল। জেসনের এই স্বীকারোক্তি পুরো 'শো হোল্ডিংস'-এর স্টক মার্কেটে ধস নামায় এবং তাদের পারিবারিক সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
জেসন যখন নিনার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চায় এবং বলে, সে গত তিন বছর ধরে প্রতিটা রাত নিনার ছবি দেখে কাটিয়েছে এবং নিনার অভাব বোধ করেছে, তখন নিনা জেসনের হাতে একটি চেক এবং তার পুরনো রুমালটি ফিরিয়ে দেয়। নিনা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়: আমি তোমার টাকাও চাই না, ভালোবাসাও চাই না। আজ থেকে তোমার আর আমার মাঝের সব হিসাব চুকে গেল। তুমি আমার জীবন থেকে চিরতরে বাদ।
ড্রামাটি থেকে আমাদের শিক্ষা
এই ড্রামা ভিডিওটি শুধু একটি বিনোদনমূলক গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজকে এক বড় বার্তা দেয়। অর্থ ও ক্ষমতা কখনো মেধার বিকল্প হতে পারে না: জেসন এবং জেনা সাময়িকভাবে ক্ষমতার জোরে নিনার ক্ষতি করতে পারলেও, নিনার মেধা তাকে ঠিকই সফলতার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
আত্মসম্মানই শেষ কথা: নিনা জেসনকে অন্ধের মতো ভালোবাসলেও, যখন সে জানতে পেরেছে জেসন তাকে সম্মান করে না, সে জেসনের কোটি টাকার অফার লাথি মেরে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারমা বাস্তব: আপনি আজ অন্যের সাথে যা করবেন, প্রকৃতি আপনাকে তার চেয়েও দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেবে। জেসন নিনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু আজ জেসনের নিজের ক্যারিয়ার ও পারিবারিক ব্যবসা ধ্বংসের মুখে।

Post a Comment