মানব জীবনের জটিল সমীকরণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় হলো সম্পর্ক। কখনো কখনো যে মানুষকে আমরা সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি, তার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে অন্য এক চেনা মানুষ। অরিন্দম চৌধুরী এবং রীমা সেনগুপ্তের জীবনের গল্পটিও ঠিক তেমনই এক টানটান উত্তেজনা আর আবেগে ভরপুর।
৩ বছরের সংসার এবং এক আকস্মিক ফাটল
গল্পের শুরুটা হয়েছিল এক সাধারণ দম্পতির মতো হলেও, সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্কের ভেতরের দূরত্ব বাড়তে থাকে। দীর্ঘ তিন বছর একসাথে থাকার পরও তাদের মধ্যে তৈরি হয়নি এক অদৃশ্য দেয়াল। এরই মাঝে যখন বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ সামনে আসে, তখন সম্পর্কের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়। অরিন্দম যখন রীমাকে ডিভোর্সের জন্য চাপ দিচ্ছিল, তখনো রীমা জানতো না এর পেছনে কত বড় কর্পোরেট ষড়যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করছে।
অফিসের ভেতরের নোংরা রাজনীতি
রীমা সেনগুপ্ত যখন গ্লোবাল কর্পোরেশনের ডিজাইন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন, তখন থেকেই অফিসের কিছু কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। মেঘলা দাস এবং বিপ্লব ঘোষের মতো চরিত্ররা রীমার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন ধ্বংস করার জন্য ল্যাপটপের ডিজাইন স্কেচ চুরি করে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির কাছে পাচার করে দেয়। শুধু তাই নয়, পুরো দোষ রীমার ওপর চাপানোর জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সত্যকে কি এত সহজে চেপে রাখা যায়? রীমা তার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা এবং অফিসের গোপন রেকর্ডিংয়ের সাহায্যে মেঘলা ও বিপ্লবের মুখোশ সবার সামনে উন্মোচন করেন।
হাসপাতালের সেই নাটকীয় মোড়
গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন এবং নাটকীয় মোড় আসে হাসপাতালের কেবিনে। একদিকে রীমার ভাইয়ের অসুস্থতা এবং অন্যদিকে অরিন্দমের ওপর আসা প্রাণঘাতী হামলা। মেঘলার শেষ চাল ছিল অরিন্দমকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া। কিন্তু রীমা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অরিন্দমকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন। এই এক ফোঁটা ভালোবাসার টান অরিন্দমকে তার ভুলের তীব্র অনুভূতি এনে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অরিন্দম যখন বুঝতে পারে কে তার আসল আপন, তখন রীমা তার সামনে এক কঠিন সিদ্ধান্ত এনে দাঁড় করায়।
শেষ পরিণতি: কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ?
সিলেক্টিভ অ্যামনেশিয়া নাকি এক নতুন নাটক? অরিন্দম কি আসলেই রীমাকে ভুলে গেছে, নাকি রীমাকে নিজের জীবনে ধরে রাখার জন্য এটা তার শেষ চেষ্টা? সম্পর্কের এই ভাঙা-গড়ার খেলায় শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, তা জানতে হলে এই ড্রামাটির গভীর অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, কর্পোরেট জগতের নোংরা যুদ্ধ এবং খাঁটি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই গল্পটি।

Post a Comment