ফ্রান্স বনাম স্পেন: ফাইনালের আগেই যেন আরেক ফাইনাল।

 

ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন মঙ্গলবার রাত ১টায় বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে, যা কার্যত বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুই দলই ছিল দুর্দান্ত ছন্দে।

কাবো ভার্দের বিপক্ষে কিছুটা হোঁচট খেলেও স্পেন টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। পুরো আসরে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার প্রমাণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সও টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল দারুণ ছন্দে। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই তাদের দেখা হচ্ছে।

টুর্নামেন্টের সেরা দুই দলের এই লড়াইকে অনেকে “ফাইনালের আগেই ফাইনাল” বলে আখ্যা দিচ্ছেন। দুই দলের ফুটবল দর্শনও একেবারে ভিন্ন। ফ্রান্সের শক্তি দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ, আর স্পেন বিশ্বাস করে বল দখলে রেখে নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে।

শেষ চারে ওঠার পথে ফ্রান্সকে খুব বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। দলটির তারকাবহুল আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে তিনি ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন।

গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার এমবাপ্পেকে সহায়তা করছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা মাইকেল অলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দোয়ে।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন শান্ত ও পরিপক্ব ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। তারা তাদের চিরচেনা বল দখলভিত্তিক কৌশল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং প্রতিভাবান স্কোয়াডের ওপর নির্ভর করে।

গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল। এছাড়া ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও তারা ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে।

দুই দল এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে স্পেনেরই পরিষ্কার আধিপত্য—তাদের জয় ১৮টি। ফ্রান্স জিতেছে ১৩ বার, আর ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

২০১৮ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে স্পেন ২৭ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে (১৬ জয়, ১০ ড্র)। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে ২-১ গোলে হারার পর থেকে তারা টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত।

এখন দেখার বিষয়, ফ্রান্সের বজ্রগতির পাল্টা আক্রমণ স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারে কি না, নাকি স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে। উত্তর দেবে সময়ই।

Post a Comment

Previous Post Next Post